তা আর হলো কই

সকল কবিদের মতো
আমিও তো জন্মাতে চেয়েছিলাম
নারীর খোপায় গোজা
সুঘ্রাণ ছড়ানো ফুল হয়ে।

সকল ব্যস্ততা ফেলে,
নিশ্চিন্তে অবাধ্যের সনদ লাগানো
ডানাগুলো মেলে
ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো যায়
এরকম পৃথিবী নামক জেলে
আত্মতৃপ্তি প্রাপ্ত পাখি হয়ে।

আমিও তো জন্মাতে চেয়েছিলাম
বসন্তের ফুলের মন মাতানো
গন্ধ হয়ে,

জন্মাতে চেয়েছিলাম আঁকাবাঁকা নদী হয়ে
আজীবন যারা মনের আনন্দে
চলছে বয়ে।

জন্মাতে চেয়েছিলাম প্রকৃতির
অসীম নিস্তব্ধতা হয়ে,
শহরের শ্রুতিমধুর কোলাহল হয়ে।

জন্মাতে চেয়েছিলাম সেই প্রেমিক,
সেই কবি, কিংবা তার লেখা কবিতা হয়ে।
কিংবা প্রেমিকার কোলে মাথা রেখে
প্রেমিকের ক্লান্তি দূর করা সেই ঘুম হয়ে।
হৃদয়ের মাঝে ভীষণ ক্ষত সৃষ্টিকারী
প্রেমিকার সেই ধারালো চাহনি হয়ে।

দুর্ভিক্ষের মধ্যে একজন ক্ষুধার্তের
খাবারের দিকে করুণ দৃষ্টি হয়েও তো
আমি জন্মানোর অপেক্ষায় ছিলাম।
কিন্তু আমি তো এক অপ্রয়োজনীয়
মানুষ হয়ে এই প্রয়োজনের পৃথিবীতে
অনিচ্ছাকৃতভাবে জন্ম নিলাম।